আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো রায়ের বিরুদ্ধে ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করলে পরে আর সেই সুযোগ থাকবে না।
সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।
নির্বাহী আদেশে আইনের ব্যত্যয় নয়
আবুল কালাম আযাদকে আপিল করার শর্তে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের শর্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, ‘আইনে পরিষ্কার বলা আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। পরবর্তী সময়ে আর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।’
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধানকে অতিক্রম করে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আবুল কালাম আযাদকে আপিল দায়েরের শর্তে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেই অংশকে তিনি ‘ইললিগ্যাল’ ও ‘আনলফুল’ বলে মন্তব্য করেন।
তবে তাঁর সাজা স্থগিতের বিষয়ে সরকারের এখতিয়ার রয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘যে আসামিই হোক, ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে’
আবুল কালাম আযাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তী সময়ে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এই বিধান সব আসামির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—তিনি পলাতক হোন কিংবা কারাগারে থাকুন। শেখ হাসিনা, আবুল কালাম আযাদসহ যেকোনো আসামিকে রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে।
‘কেউ যদি ৩০ দিনের মধ্যে এসে আপিল না করেন, তাহলে ওই আসামির পক্ষে আর আপিল করার সুযোগ থাকবে না,’ বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!