যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাটিতেই পা রাখছেন কোহলি, ‘ভাগ্যবানরাই এই জায়গায় পৌঁছাতে পারে’

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ AM

১৩
মাটিতেই পা রাখছেন কোহলি, ‘ভাগ্যবানরাই এই জায়গায় পৌঁছাতে পারে’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট হাতে যেন ঝড় তুলেছিলেন বিরাট কোহলি। একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শট, ছক্কার পর ছক্কা—শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে ১৩৯ রানে অপরাজিত থেকে ভারতকে জিতিয়েছেন তিনি। ইনিংসটিতে ছিল ১০টি চার ও ৯টি ছক্কা। একই সঙ্গে পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৫তম সেঞ্চুরি এবং পেরিয়েছেন ১৫ হাজার রানের মাইলফলক।

তবে এমন একটি ইনিংস ও একাধিক মাইলফলকের পরও নিজের অর্জন নিয়ে খুব একটা মাতামাতি করতে চান না কোহলি। বরং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের হয়ে খেলতে পারাকে সৌভাগ্য ও কৃতজ্ঞতার বিষয় হিসেবেই দেখছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারীর সঙ্গে আলাপে কোহলি বলেন, মাইলফলক তাঁর কাছে কখনোই মূল বিষয় ছিল না। পরিস্থিতি বুঝে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলাই তাঁর লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারার জন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন তিনি।

কোহলির ভাষায়, “কখনোই মাইলফলকের কথা ভেবে খেলি না। পরিস্থিতি বুঝে দলকে সাহায্য করাই আমার দায়িত্ব। তাতে কিছু কিছু জিনিস অর্জন করা যায়। এত দিন ধরে খেলতে পারার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মাথা নিচু করে কঠোর পরিশ্রম করি এবং যা অর্জন করেছি, তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।”

১৫ হাজার ওয়ানডে রান পূর্ণ করার পর কোহলি এই ক্লাবে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। এর আগে একমাত্র শচীন টেন্ডুলকারই এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

নিজের পথচলার কথা স্মরণ করে কোহলি বলেন, খ্যাতি ও মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার পর অনেক সময় একজন খেলোয়াড় ভুলে যেতে পারেন তিনি কোথা থেকে উঠে এসেছেন। ছোটবেলার সেই পথের দিকে ফিরে তাকালে নিজের অর্জনের প্রতি কৃতজ্ঞতা আরও বাড়ে বলে মনে করেন তিনি।

“এমনও হতে পারত যে আমি হয়তো এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না। হয়তো ভারতের হয়ে কোনো দিন খেলতেই পারতাম না। কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এত অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারছি। এত মানুষের সামনে দলের হয়ে নিজের অবদান রাখতে পারছি। এই স্বপ্নটাই তো দেখেছিলাম,” বলেন কোহলি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু ওয়ানডে খেলছেন কোহলি। এই ফরম্যাটে নিজের ধারাবাহিকতার কারণ হিসেবে খেলা বোঝা, ফিট থাকা এবং মানসিকভাবে সতেজ থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

কোহলি বলেন, “সবার আগে খেলাটাকে বোঝার চেষ্টা করি। নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করি। কারণ আসল খেলাটা হয় মনে। আমি কখনোই খুব বেশি অনুশীলন করি না। তিন ফরম্যাটে খেলার সময় থেকেই এটা বজায় রেখেছি। মানসিকভাবে তরতাজা থাকাই আমার কাছে আসল।”

নিজের খেলার ধরনেও কিছুটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন বলে জানান এই ব্যাটার। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চান, তবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে চান না।

কোহলির লক্ষ্য এখন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ফরম্যাটে তাঁর আরও কিছু খেলা বাকি আছে। তাই প্রতিটি দিন উপভোগ করার পাশাপাশি নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করছেন।

“নিজেকেই নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে ইতিবাচকভাবে ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব, তবে বেপরোয়া হব না। পেশাদার ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে বেপরোয়া শট না খেলে দলকে জেতানোই আমার কাজ,” বলেন কোহলি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে কোহলির সঙ্গে শতক করেছেন ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিলও। তাঁদের ব্যাটে ভর করে ২৯৬ রানের লক্ষ্য ৪১.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় ভারত। ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৫ রানের জবাবে ভারত জয় পায় ৮ উইকেটে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!