যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহ্দী আমিন

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ AM

১৩
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহ্দী আমিন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদসংশ্লিষ্ট আটটি এবং ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে বলে জানান তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে চার কর্মদিবসের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে দেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন এবং তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সমুন্নত রেখেছেন।’

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ ছিল সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওই ভাষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তরুণ ও নারীদের জন্য সরকারের নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা, ফিলিস্তিন ও জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন বলে জানান মাহ্দী আমিন। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সরকারের রূপকল্পও উপস্থাপন করেছেন তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, সাধারণ বিতর্কে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু মোকাবিলা, ন্যায়সংগত উত্তরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীসেবা বিষয়ে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বা অংশ নেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের কথা বলেননি, বিশ্বশান্তির কথাও বলেছেন। ফিলিস্তিনে কীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়েও কথা বলেছেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার ঘটনাকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে সমর্থনের আশ্বাস পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান।

মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেক বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সফরে উপস্থাপিত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করবে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কাজ করব।’

সফরসঙ্গী ছিলেন ৩৫ জন

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অনেক সফলতা রয়েছে। সফরটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনেরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের জমায়েতের যে রেওয়াজ ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা সমর্থন বা উৎসাহিত করেননি।

শিবলী বলেন, ‘আমাদের প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি একটি গুণগত পরিবর্তন।’

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের আকার ছোট রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, সফরসঙ্গী দলে সদস্য ছিলেন মাত্র ৩৫ জন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে বড় বহর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিবর্তে টার্কিশ এয়ারলাইনসের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিউইয়র্কে যান এবং এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দেশে ফেরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসসহ মোট পাঁচ দিনের সফর শেষে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!