যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ, জবাবদিহি চায় বাপা

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ PM

৮
কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ, জবাবদিহি চায় বাপা

কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, মহেশখালীর সংরক্ষিত পাহাড়ি বন ও সোনাদিয়া দ্বীপের প্যারাবন ঘিরে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। এসব প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-কে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘অপরিকল্পিত উন্নয়নে বিপন্ন কক্সবাজার: পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় যখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থ সহায়তা চাইছে, তখন একই সময়ে এমন কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেগুলো উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করছে। টেকসই নয়—এমন কোনো প্রকল্পকে প্রকৃত উন্নয়ন বলা যায় না।

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বালিয়াড়ি সমুদ্রের ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের অভিঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে সড়ক নির্মাণ করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উপকূলীয় ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

মহেশখালীর সংরক্ষিত পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, পাহাড় ও বন কেটে অবকাঠামো নির্মাণ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানোর পরিবর্তে তা বাড়িয়ে দিতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৮ মিটার প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং জাইকার অর্থায়নে কক্সবাজার পৌরসভার নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাপার দাবি, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA)। ফলে সৈকতের বালিয়াড়িতে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও বিশেষজ্ঞ মতামত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বাপার তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সড়কের একটি অংশ সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এতে বন, পাহাড়, গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে সোনাদিয়া দ্বীপের প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়িঘের সম্প্রসারণের বিষয়েও উদ্বেগ জানায় বাপা। সংগঠনটির মতে, প্যারাবন উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। এটি ধ্বংস হলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রের ঢেউয়ের সময় স্থানীয় মানুষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বাপার কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এর স্বাতন্ত্র্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা না করলে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বে পুরো উপকূলীয় অঞ্চল।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সুগন্ধা-কলাতলী সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়া নতুন প্রকল্প গ্রহণ না করা এবং সৈকত ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণ বন্ধ, বন্যপ্রাণীর চলাচলের করিডোর নিশ্চিত করা এবং বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়ে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।

সোনাদিয়ার প্যারাবন রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জেলে, লবণচাষি ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করারও দাবি জানানো হয়।

বাপার পক্ষ থেকে একই সঙ্গে জাইকা, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে অতীতে বাস্তবায়িত পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, সহসভাপতি জাকির হোসেন, কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!