নৃত্য ও সংগীতের সংমিশ্রণে যে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি হয়, তা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্দীপনা তৈরি করে। এই মাধ্যম জোর করে ক্ষমতা দখল করে থাকা ফ্যাসিস্টদের আসনও নাড়িয়ে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা’র নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংস্কৃতির আবহমান ধারার অন্ধকার ও অমানবিক দিকগুলো দূর করে সত্য, সুন্দর, নারী ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতির চর্চাকে ধারণ করাই আধুনিক সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
‘নৃত্য মনকে নির্মল করে’
নিজের নৃত্য সম্পর্কে কারিগরি জ্ঞান না থাকার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গান ও বাদ্যের তালে যখন কোনো নৃত্য মঞ্চস্থ হয়, তখন তা মানুষের মনকে নির্মল করে। কাজের বা মনের চাপও মুহূর্তের মধ্যে দূর করে দিতে পারে নৃত্য।
তাঁর ভাষায়, গীত ও বাদ্যের ছন্দে শরীরের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে যে ভাব, অনুভূতি ও চিত্রকল্প তৈরি হয়, সেটিই নৃত্যের ললিতকলা।
রিজভী বলেন, যুগ যুগ ধরে দেশে ও বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের নৃত্যশিল্প গড়ে উঠেছে। শাস্ত্রীয়, লোকজ ও আধুনিক নৃত্যের পাশাপাশি লেটো দল, কবিগান ও গম্ভীরার মতো লোকজ আয়োজনও বাংলাদেশের সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে আসছে।
‘নৃত্য ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারে’
নৃত্যকে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মাধ্যম উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আন্দোলনের মঞ্চে গান ও নাচের মাধ্যমে প্রতিবাদ যখন প্রকাশ পায়, তখন তা মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি নাচের তালে তালে পরিবেশিত হলে মানুষের মধ্যে বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার প্রবল প্রেরণা তৈরি হয়। বিগত ফ্যাসিবাদের সময় ‘দেশটা কি তোর বাপের নাকি’ গানের সঙ্গে শিল্পীদের অঙ্গভঙ্গিও গণআন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অমানবিক ঐতিহ্য বাদ দেওয়ার আহ্বান
আবহমান সংস্কৃতির অন্ধকার দিকগুলো বাদ দিয়ে প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যকে ভুলে গেলে চলবে না। তবে ঐতিহ্যের অমানবিক দিকগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সতীদাহ প্রথার মতো অমানবিক রীতির বিলোপ এবং বিধবা বিবাহের প্রচলন সমাজের অগ্রগতির উদাহরণ।
রিজভীর মতে, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে যে গান ও আধুনিক নৃত্যের চর্চা তৈরি হয়েছে, সেটিই প্রগতির প্রতীক। অতীতের অমানবিক ও অন্ধকার দিক বাদ দিয়ে অগ্রগতির জন্য যে শিল্পচর্চা হবে, তা সমাজকে সামনে এগিয়ে নেবে।
‘কুৎসিত সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করা যাবে না’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘এখন আর গুম, গুপ্তহত্যা কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যুগ নেই।’ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের কর্মসূচি থাকবে এবং তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করবে—এতে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।
তবে অতীতের ‘কুৎসিত সংস্কৃতি’র পুনরাবৃত্তি হলে দেশ আবার অন্ধকারের দিকে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট নিয়ে যা বললেন
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সরকারের অভ্যন্তরীণ কোনো ব্যর্থতার কারণে নয়। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৈশ্বিক যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প ও সংস্কৃতির নিয়মিত চর্চার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংগীত, সাহিত্য ও নৃত্যের চর্চা মানুষের মন থেকে নিষ্ঠুরতা ও রক্তপিপাসু মানসিকতা দূর করে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!