যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারা দেশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, আলোচনা সভা, দোয়া, আবৃত্তি, গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের শুরুতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। পরে বিএনপি, বাসদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি।
রিজভী বলেন, নজরুল জীবনভর অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং মানুষকে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের বাণী মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর লেখনী ও সাহিত্যকর্ম ধারণ করে এগিয়ে চললে মানুষ আরও নির্ভীক হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, নজরুলের মতো মহীরুহ প্রতিভাকে নিয়ে চর্চা ও অনুশীলন আবার শুরু হয়েছে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান, সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন, জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য লিয়াকত আলীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও হল, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম, নজরুল একাডেমি, নজরুলসংগীত শিল্পী সংস্থা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন নজরুলসংগীত।
বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়ায় কবির আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।
শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনের আয়োজন
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমারে দেবো না ভুলিতে’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর। সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
ছায়ানটের আয়োজনে ‘নজরুলের গানে মাতোয়ারা ঢাকা’
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছায়ানট। সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে ‘নজরুলের গানে মাতোয়ারা ঢাকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী লাইসা আহমদ লিসা। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দ্বিতীয় পর্বে শিল্পীদের একক কণ্ঠের গানে কবির প্রেম, বিরহ ও আধ্যাত্মিক ভাবধারা তুলে ধরা হয়।
নজরুল ইনস্টিটিউটে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’
বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া, হামদ ও নাতের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।
এ ছাড়া কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, আবৃত্তি, নাচ ও গানসহ নানা আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!