দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলে রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির (বিওএফ) সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে জলিল টেক্সটাইল মিলসের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিওএফ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গত দুই–তিন দশকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাত তা আরও স্পষ্ট করেছে।
তাঁর মতে, তুলনামূলক কম খরচে উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একটি দেশের সামরিক সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম যুদ্ধের গতি ও ধরন বদলে দিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম মজুত রাখার যে প্রচলিত ধারণা ছিল, সেখানেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তাই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব
প্রতিরক্ষা শিল্পে গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ড্রোনসহ আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তুলনামূলক কম খরচে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম উৎপাদন করছে তারা।
বাংলাদেশের জন্যও এ ক্ষেত্রে বড় সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দ্রুত সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। পাশাপাশি নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিওএফ সম্প্রসারণকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি সম্ভাবনাও রয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে পারবে।
বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে দেশের শিল্প খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের আগেই দেশের বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেগুলো নতুনভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের গর্ব ও আস্থার প্রতীক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই বাহিনীর সুনাম রয়েছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বিওএফ সম্প্রসারণ তারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান বক্তব্য দেন।
এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তিতে বিটিএমসির পক্ষে চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে মিলিটারি এস্টেট অফিসার মিসেস সাজিয়ে তাহের স্বাক্ষর করেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!