যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬, শনিবার ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ৩৯২, নিখোঁজ ১,৪০০

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৫ AM

১১
নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ৩৯২, নিখোঁজ ১,৪০০

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর উদ্ধারকাজ চলছে। কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের সন্ধানে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দুর্যোগে বেশ কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি ভেসে গেছে। হিমশীতল পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত সুনামির মতো নেমে এসে শহর ও জনপদ তছনছ করে দিয়েছে। কাদার তোড়ে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি সেতু ও বাঁধ ভেঙে পড়েছে। ভেসে গেছে অসংখ্য যানবাহন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো কাটেনি। আরও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নেপালে ভ্রমণে যাওয়া ট্রেকার এবং তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া হিন্দু তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩৮৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৯১০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক।

এ ছাড়া নেপালে থাকা ১০০ জন চীনা নাগরিকেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বেইজিং। এই ১০০ জনের হিসাব ৯১০ নিখোঁজের তালিকার বাইরে।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ৯০ জন নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।

তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং বন্দরে ভূমিধসজনিত দুর্যোগে তিনজন নিহত হয়েছেন। সেখানে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বৃহস্পতিবার ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারক করেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বতে প্রায় ৮০০ জরুরি উদ্ধারকর্মী, প্রশিক্ষিত কুকুর ও স্পিডবোট উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে।

‘অভ্যন্তরীণ সুনামির মতো’

দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টা পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার তিনি বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, শাহ স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ-ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রুথ গ্যাম্বল বলেন, আকস্মিকভাবে নেমে আসা কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতটি ‘অভ্যন্তরীণ সুনামি’র মতো ছিল। এটি নেপালের ভেতরে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপনকারী বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা দালাই লামা এই দুর্যোগে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের জন্য প্রার্থনা করার কথা জানিয়েছেন।

হিমবাহ ধস থেকেই দুর্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, একটি হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে এই দুর্যোগের সূত্রপাত। এতে বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নিচের দিকে ধেয়ে আসে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউএসজিএস জানায়, এটি আসলে হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের বন্যা ও হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়ছে।

আরও বন্যার আশঙ্কা

দুর্যোগের পরও আরও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে উপত্যকার কিছু অংশ আটকে যাওয়ায় সেখানে পানি জমে আছে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং বলেন, নেপাল-চীন সীমান্তের নদীর উজানে এখনো বড় ধরনের একটি বাধা রয়েছে। এর ফলে দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে।

নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ বৃহস্পতিবার বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে জানিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে ভারতীয় আধ্যাত্মিক নেতা সদগুরু জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বহু হিন্দু তীর্থযাত্রীও সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ রয়েছেন। কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে একটি অভিবাসনকেন্দ্রে তাঁরা বন্যার কবলে পড়েন।

তিব্বত থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সদগুরু বলেন, পুরো দলটি ওই ভবনের ভেতরে ছিল। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ও নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!