যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪১ AM

৭৯
আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

সকালে এক চুমুক, খাবারের আগে এক চামচ কিংবা সালাদের সঙ্গে—আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার নানা প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ—এটি নিয়ে নানা ধরনের দাবি শোনা যায়। তবে এর কিছু সম্ভাব্য উপকারের পক্ষে গবেষণা থাকলেও সব দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই।

তাই আপেল সাইডার ভিনেগার কেন খাবেন, কখন খাবেন এবং কীভাবে খেলে নিরাপদ—এসব বিষয় জানা জরুরি।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক

আপেল সাইডার ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে, যা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সঙ্গে ভিনেগার গ্রহণ করলে খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

পুষ্টি গবেষক ক্যারল জনস্টন ও তাঁর সহকর্মীদের একটি গবেষণায় দেখা যায়, খাবারের সঙ্গে ভিনেগার গ্রহণ করলে খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধির ওপর প্রভাব কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রহণের তুলনায় বেশি হতে পারে।

তবে এটিকে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ওজন কমাতে কি সাহায্য করে?

আপেল সাইডার ভিনেগার ওজন ব্যবস্থাপনায় সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে—এমন কিছু গবেষণা রয়েছে। ২০০৯ সালে জাপানি গবেষক টোমু কনডোর নেতৃত্বে পরিচালিত ১২ সপ্তাহের একটি গবেষণায় ১৭৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।

গবেষণায় প্রতিদিন ভিনেগার গ্রহণকারীদের শরীরের ওজন, বিএমআই ও শরীরের চর্বিতে সামান্য কমতি দেখা যায়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে আপেল সাইডার ভিনেগার সরাসরি চর্বি গলিয়ে দেয় বা পেটের মেদ কমায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্ত্রের জন্য কতটা উপকারী?

আপেল সাইডার ভিনেগারের সম্ভাব্য উপকারের মধ্যে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বেশ আলোচিত। প্রাথমিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভিনেগার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এ বিষয়ে বেশির ভাগ প্রমাণ এখনো প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণা থেকে এসেছে। মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই আপেল সাইডার ভিনেগার অন্ত্রের জন্য নিশ্চিতভাবে উপকারী—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো ঠিক হবে না।

কখন খাবেন?

যদি লক্ষ্য হয় খাবারের পর রক্তে শর্করা বৃদ্ধির মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা, তাহলে গবেষণাগুলো খাবারের সঙ্গে বা খাবারের কিছুক্ষণ আগে ভিনেগার গ্রহণের দিকে ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

তবে শুধু আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়কে সবচেয়ে ভালো—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।

কতটুকু খাবেন?

শুরু করার সহজ উপায় হলো এক বড় গ্লাস পানিতে প্রায় ১ চা-চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নেওয়া। বিভিন্ন গবেষণায় এর চেয়ে বেশি পরিমাণও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে গবেষণায় বেশি পরিমাণ ব্যবহৃত হয়েছে বলেই তা অনুসরণ করতে হবে—এমন নয়।

বরং বেশি ভিনেগার গ্রহণে বেশি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়, এমন প্রমাণ নেই।

সরাসরি পান করবেন না

আপেল সাইডার ভিনেগার অ্যাসিডিক হওয়ায় এটি ঘন অবস্থায় পান করা নিরাপদ নয়। সরাসরি পান করলে গলা বা মুখে জ্বালাপোড়া হতে পারে এবং নিয়মিতভাবে দাঁতের সংস্পর্শে এলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তাই আপেল সাইডার ভিনেগার পান করতে হলে পর্যাপ্ত পানিতে মিশিয়ে নেওয়া ভালো। দাঁতের সঙ্গে অ্যাসিডের সরাসরি সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কম রাখাও জরুরি।

সব মিলিয়ে, আপেল সাইডার ভিনেগারের কিছু সম্ভাব্য উপকার নিয়ে গবেষণা থাকলেও এটিকে কোনো ‘ম্যাজিক’ স্বাস্থ্যপণ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। পরিমিত পরিমাণে, সঠিকভাবে এবং খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!