লিথুয়ানিয়ায় বিদেশি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। ছবি: সংগৃহীত
লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ডে বিদেশি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হলে রাশিয়া এর প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। ১৫ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গে চলমান আন্তর্জাতিক যুব উৎসবের সাইডলাইনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাখারোভা লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্টে বিদেশি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগসংক্রান্ত আইন সংশোধনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে রাশিয়ার দৃষ্টিতে উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীলতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
রুশ মুখপাত্রের দাবি, ন্যাটোর তথাকথিত বর্ধিত পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার যেকোনো উদ্যোগ রাশিয়ার নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ায় এ ধরনের সক্ষমতা বাড়ানো হলে মস্কো সেটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করবে।
জাখারোভা আরও বলেন, বেলারুশে রাশিয়ার অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনকে মস্কো ইউনিয়ন স্টেটের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অংশ হিসেবে দেখে। এটি রাশিয়ার ঘোষিত অবস্থান।
তবে লিথুয়ানিয়ার আইন সংশোধনের ফলে দেশটিতে বাস্তবে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টিকে সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন ও তা নিয়ে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন প্রবেশের পর ন্যাটোর ইতালীয় যুদ্ধবিমান সেটিকে ভূপাতিত করে। লিথুয়ানিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনটি বেলারুশের দিক থেকে প্রবেশ করেছিল এবং প্রাতকুনাই এলাকার কাছে সেটি ধ্বংস করা হয়। ড্রোনটির উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্ত চলছিল।
এই ঘটনার পর বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও আলোচনায় আসে। ন্যাটোর বাল্টিক আকাশ প্রতিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে ইতালীয় যুদ্ধবিমান লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় দায়িত্ব পালন করছে
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!