যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ AM

৪৮
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে।

রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এ কারণে এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। তা না হলে আগামী মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরে ঝুঁকি বেশি

বিগত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত ও এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

তিনি বলেন, এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনই প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

সামাজিক আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে যুক্ত করে এক-দুই দিনের মধ্যে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন শুরু করা হবে।

বিশেষ করে ঢাকা শহরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বাইরের কর্মীদের প্রবেশে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাসিন্দাদের নিজেদের উদ্যোগে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুলিশিং বা শাস্তির মাধ্যমে ডেঙ্গুর মতো রোগ নির্মূল করা সম্ভব নয়। প্রতিরোধে প্রতিটি নাগরিককে নিজ দায়িত্বে এগিয়ে আসতে হবে।

বাড়ানো হবে হাসপাতালের প্রস্তুতি

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও যাতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে কোনো শয্যাসংকট নেই। তবে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সোমবার দেশের সব সিভিল সার্জনের সঙ্গে জুম বৈঠক করা হবে। সেখানে অতিরিক্ত শয্যা প্রস্তুত রাখা এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন ও পরীক্ষার কিট মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

মৃত্যুর হার কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গুর স্ট্যান্ডার্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের ভেতরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকাতে পর্যাপ্ত মশারি সরবরাহ এবং হাসপাতালের আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

মশক নিধনে জোর

মশক নিধন কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই মাস ধরে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

গত কয়েক বছরের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার এক মাস আগেই সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রোগ প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন করতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!