যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ AM

জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, যেসব বিষয় বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেগুলো সংবিধান সংশোধন করেই বাস্তবায়ন করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায় জানিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতীতেও সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সেই পথেই এগোতে চায়।

চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমরা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবটাই বাস্তবায়ন করব।’

তৃতীয় অধিবেশনের কার্যক্রম

চিফ হুইপ জানান, জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর অধিবেশন শেষ হয়। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপন এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা মোট ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।

বাবা-মায়ের সম্পত্তির অধিকার

তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকারসংক্রান্ত আইন অন্যতম বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। তাঁর মতে, এ আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন। কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

গুম ও মানবাধিকার আইন

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসব আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে আইনগুলো আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ে যা বললেন

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আন্দোলন বা লংমার্চ করে তাৎক্ষণিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। তাই দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে সরকারকে সময় দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আগের সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন চিফ হুইপ। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব বিষয় পর্যালোচনা করছে।

২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ

সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে বর্তমান সরকার। সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

কৃষি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে কৃষিঋণ ও কৃষক কার্ডের বিষয়টি রয়েছে। বিপুলসংখ্যক কৃষক পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় উপকৃত হবে।

দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমানে ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার অতিরিক্ত রয়েছে। সার ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।

১০১ এমওইউ পর্যালোচনা

বিদেশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে সরকার আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে বলে জানান চিফ হুইপ। এসব বিষয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে চুক্তিগুলোর আর্থিক দিকও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কোনো দেশকে শত্রু হিসেবে না দেখে সবাইকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোতে দুজন করে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে বিরোধী দলের সদস্যকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির খুবই সীমিত। তবে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে।

সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি, বরং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘সরকার একা আইন পাস করতে চায় না’

চিফ হুইপ বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইচ্ছা করলে আইন পাস করতে পারে। তবে সরকার তা না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, তিনি কোনো একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দেশকে স্বাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চেয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুল হলে সেটিও লিখতে হবে, আবার সরকার সঠিক কাজ করলে সেটিও তুলে ধরতে হবে। সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি থাকলে সাংবাদিকেরা তা তুলে ধরবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার এবং বিরোধীদল সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তা করব।’

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!