ইরাক থেকে সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সৌদি আরব এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরব এই পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি উপসাগরীয় অঞ্চলের কাছে অবস্থিত আবকাইক থেকে লোহিত সাগরের বন্দর ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট-ওয়েস্ট বা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাক থেকে আসা কয়েকটি ড্রোন দিয়ে পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি পাইপলাইন ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএকে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির অনুরোধে আপাতত হামলার জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াদ। একই সঙ্গে ইরাক সরকারের সঙ্গে মিলে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে এ ধরনের হামলা বন্ধের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে সৌদি আরব।
তবে সৌদি আরব সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা ও জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার দেশটি সংরক্ষণ করে।
এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির কার্যালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইসান প্রদেশের দায়িত্বে থাকা কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভাষ্য, সৌদি আরবের জনগণের বিরুদ্ধে চালানো হামলার উৎস মাইসান প্রদেশের একটি স্থান ছিল—এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওই কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!