যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আইনের ফাঁকে আটকে রাখা যায় না মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের: আইজিপি

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ AM

৪৮
আইনের ফাঁকে আটকে রাখা যায় না মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের: আইজিপি

আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের অনেক সময় দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, এসব অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হলেও পরে তারা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ—পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার আহ্বান

মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা আকর্ষণীয় নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে এনার্জি ট্যাবলেট বা অন্য নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সন্তানদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন সন্তান মাদকে জড়িয়ে পড়লে শুধু তাঁর নিজের জীবনই নষ্ট হয় না, পুরো পরিবারকেও এর খেসারত দিতে হয়। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এমন ঘটনাও দেখেছেন, যেখানে মাদকের টাকা না দেওয়ায় সন্তান নিজের বাবাকে মারধর করে আহত করেছে।

‘জনবান্ধব পুলিশিং করতে হবে’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পুলিশকে জনবান্ধব ও জনগণমুখী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন আইজিপি। তিনি বলেন, কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পুলিশের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমাদের পুলিশিং হবে পিপল ওরিয়েন্টেড। জনগণের প্রতি আমরা জনবান্ধব হবো। কিন্তু জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন।’

পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, শুধু লোক দেখানো বা প্রচারের জন্য নয়, বাস্তবে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের সড়কে চলাচলের নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আইজিপি বলেন, ভবিষ্যতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

‘ঢাকাকে বদলাতে হলে আগে নিজেদের বদলাতে হবে’

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা শহর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানো নয়, পুরো ঢাকা শহরে একটি সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, পরিবেশ ভালো রাখতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ঢাকাকে বদলাতে হলে আগে নিজেদের বদলাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আমার, এই শহরটা আমার—আমি যদি না বদলাই, তাহলে শহর বদলাবে না।’

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসী যদি যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে এবং প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরিবর্তন আসবে।

নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান

স্কুলশিক্ষার্থীদের ঢাকার ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখানোর উদ্যোগের কথাও জানান দক্ষিণ সিটির প্রশাসক। তাঁর মতে, এতে নতুন প্রজন্ম ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে এবং শহরের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হবে।

শিশু-কিশোরদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্কসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছ রোপণ করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!