যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

তথ্য, ম্যাট্রিক্স ও ট্র্যাকার এক প্ল্যাটফর্মে, সহজ হবে ইশতেহার বাস্তবায়ন মনিটরিং

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ AM

১২
তথ্য, ম্যাট্রিক্স ও ট্র্যাকার এক প্ল্যাটফর্মে, সহজ হবে ইশতেহার বাস্তবায়ন মনিটরিং

সরকারের বিভিন্ন সেবা, পরিকল্পনা, বাজেট ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের তথ্য একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হলে কাজের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতার মাধ্যমে সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাট্রিক্স, পলিসি ব্রিফ ও ট্র্যাকার তৈরি করা হলে সরকারের পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন, নাগরিক সেবা পরিবীক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণও সহজ হবে।

সোমবার ঢাকার শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির সম্মেলন কক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি পলিসি ব্রিফস অ্যান্ড ম্যাট্রিক্স’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

সেবার তথ্য এক ম্যাট্রিক্সে আনার তাগিদ

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, সরকার নাগরিকদের কী কী সেবা দিচ্ছে, এসব সেবার উপকারভোগী কারা, কোন প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে, কত ব্যয় হচ্ছে এবং প্রত্যাশিত ফলাফল কী—এসব বিষয় চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং তা কীভাবে দূর করা যায়, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে।

এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেবাগুলোকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার কথা বলেন তিনি। পরে প্রতিটি সেবার উপকারভোগী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর, প্রয়োজনীয় বাজেট এবং সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলোকে একটি সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাট্রিক্সে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি সেবাকে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। নীতি, উপকারভোগী, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, বাজেট, প্রত্যাশিত ফলাফল ও নাগরিকের মতামতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার তালিকা তৈরি, একই ধরনের সেবার পুনরাবৃত্তি কমানো এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে সেবা ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের একটি সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হবে।

অগ্রগতি পরিমাপ করবে ট্র্যাকার

সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে একটি ট্র্যাকার রাখতে হবে। সেখানে সমস্যার ধরন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, করণীয়, সময়সীমা ও অগ্রগতির তথ্য থাকবে।

কর্মশালার মূল লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নীতিকে সেবার সঙ্গে, সেবাকে উপকারভোগীর সঙ্গে, উপকারভোগীকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং প্রতিষ্ঠানকে বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করা। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতাকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

এভাবে সিভিল সার্ভিসের মেধা ও সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সব সরকারি সেবা মনিটরিংয়ের আওতায়

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা দেখভালের দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। নির্বাচনী ইশতেহার ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে একটি ম্যাট্রিক্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সেবা একসঙ্গে মনিটরিং করা সম্ভব হবে।

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাকর্মীদের মাসিক সম্মানীসহ সরকারের বিভিন্ন সেবাকে একই ম্যাট্রিক্সে আনা হবে। এসব সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ট্র্যাকার চালু করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবায় আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির ফ্যাকাল্টি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!