যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে দক্ষিণ এশিয়ায় জোরালো আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ AM

১৭
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে দক্ষিণ এশিয়ায় জোরালো আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে জোরালো আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী পাচার মোকাবিলায় আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ এবং যৌথ কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্কের প্রথম সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রতিবেশব্যবস্থা কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মানে না। অপরাধী চক্র সীমান্ত, পরিবহনব্যবস্থা, বাণিজ্যিক চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে আন্তঃদেশীয় বন্যপ্রাণী পাচার পরিচালনা করছে।

শুধু বন্যপ্রাণী জব্দ ও অপরাধী গ্রেপ্তারের মধ্যে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধের পেছনে থাকা সংগঠক, অর্থদাতা ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্ত, তদন্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

প্রতিটি বন্যপ্রাণী জব্দের ঘটনাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী কোথা থেকে এসেছে, কোন পথে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কে অর্থায়ন করেছে এবং কোথায় পাঠানো হচ্ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

অনলাইন ও আর্থিক অপরাধে নজরদারি

অনলাইনে বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় অনলাইন মনিটরিং, সাইবার তদন্ত ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন পরিবেশমন্ত্রী।

বড় ধরনের বন্যপ্রাণী অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় আইন অনুযায়ী আর্থিক তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং মানি লন্ডারিংবিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহারেরও আহ্বান জানান তিনি।

বন্যপ্রাণী ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন আবদুল আউয়াল মিন্টু।

উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং জব্দ করা জীবন্ত বন্যপ্রাণীর প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

২০২৬-৩০ কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশের সমর্থন

দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্কের কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ প্রসঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা আঞ্চলিক অগ্রাধিকারগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ এমন একটি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আইন প্রয়োগ, ফৌজদারি বিচার, ডিজিটাল ও আর্থিক তদন্ত, বিজ্ঞান ও ফরেনসিক, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বন্যপ্রাণীর চাহিদা কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, নেটওয়ার্কের প্রথম সাধারণ পরিষদ রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সদস্যদেশগুলো আরও শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা, বাস্তবভিত্তিক যৌথ কার্যক্রম এবং বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার নিয়ে কাঠমান্ডু থেকে ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্কের সদস্যদেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী, আন্তঃসংযুক্ত ও কার্যকর আঞ্চলিক বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

সম্মেলনে নেপালের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল, নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী, দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্কের মহাসচিব ড. কৃষ্ণ প্রসাদ আচার্যসহ নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!