যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটবে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ AM

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটবে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।

সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন আমরা আমদানিনির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিলাম। বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা কেবল গ্রাহক থাকব না, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হব।’

চলমান সংকট নিয়ে বিরোধী দলের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উসকানিমূলক বক্তব্য না দিয়ে জনগণের সামনে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে। বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত দেশকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

কেন তৈরি হলো সংকট

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট হঠাৎ করে তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সময়ে দেশকে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ না নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কোনো দেশের স্বার্থ রক্ষায় সেখানে খননকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।

বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় এর প্রভাব গ্যাস ও তেল সরবরাহে পড়ে।

এর পাশাপাশি দেশের দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের একটিতে বৈদ্যুতিক শকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে এবং সেটি পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। এই দুটি ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি নয়

সংকট নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সালে বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে অফিস ও ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটি দিতে হয়েছিল। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ ও আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে সংকটকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক আচরণ করা হলে পতিত ফ্যাসিবাদী চক্রই লাভবান হবে। সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই জনগণের সামনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন সংকট থেকে দেশকে বের করে এনেছে। জিয়াউর রহমানের নীতি ও দলের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিরোধী দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন সমাপ্তি-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান।

সমাপনী দিনের রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।

গত ২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছিল।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!