যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ AM

১০
বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বাক্‌স্বাধীনতা অবারিত। তবে এই স্বাধীনতা যেন বাক্‌শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গালাগালির প্রবণতার বিরুদ্ধে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বিরাজ করছে, বাক্‌স্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, বাক্‌স্বাধীনতা যেন বাক্‌শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে।’

গালাগালির সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না দেশের জনগণের কাঁধে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসন চেপে বসুক। ঠিক তেমনি কোনো বিবেকবান মানুষ, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ অবশ্যই চান না আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গালাগালিতে পরিণত হোক। এ জন্য দল-মতনির্বিশেষে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

জনপরিসরে অশালীন ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পারিবারিক পরিবেশে আমরা যে সকল কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না, কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলো ব্যবহার করব? কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলোকে পরিহার করব না?’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সত্যিই সবাই এ ব্যাপারে একমত হই, তবে আসুন আমরা গালাগালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা গ্রহণ করি।’

ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়

গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভেদ ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকারি দলই বলি, বিরোধী দলই বলি, আমরা সবাই মিলে আসুন একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি। সে কারণে সবসময় আমি বলার চেষ্টা করি, আমি বলে থাকি—“সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”।’

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ-বিরোধ শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে এবং সেই পথকে সুগম করতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং শহীদদের প্রতি কর্তব্যের অংশ হিসেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভিন্নমত থাকবে। সারা পৃথিবীতেই এটি রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে, এটিও গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। তবে ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সংসদকে কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে চান

জাতীয় সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে যেসব আলোচনা হয়েছে, তাতে উভয় পক্ষের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি ছিল না বলে তিনি মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেছেন এবং কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য তিনি উপস্থিত সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা হলো জাতীয় সংসদে আলোচনা করে তাদের সমস্যাগুলো কিছুটা হলেও লাঘব করা এবং তাঁদের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনা।

বিদেশি ঋণ পরিশোধে ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার

দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ের অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে বাংলাদেশকে ঋণের ভার বহন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এরা পালিয়ে গেছে, কিন্তু এই ঋণ রেখে গেছে এই দেশের কাঁধে, এই দেশের জনগণের কাঁধে।’

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আগের সরকার ঋণখেলাপির হিসাবেও জালিয়াতি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে ঋণখেলাপির অনুপাত ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। গত নির্বাচনের পর এ হার ছিল ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র তাঁরা পেয়েছেন। গত পাঁচ মাসে বর্তমান সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের কাঁধে এখনো বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ রয়েছে। বিএনপি সরকার অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তৈরি হওয়া ঋণখেলাপির কলঙ্ক থেকেও বাংলাদেশকে মুক্ত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ অধিবেশন সমাপ্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান।

সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী সমাপনী দিনে প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।

গত ২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছিল।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!