যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতকে সতর্ক করলেন রাশেদ খান

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৬ AM

৩৬
এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতকে সতর্ক করলেন রাশেদ খান

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দলটির নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন।

রোববার সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন।

তিনি দাবি করেন, এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, জামায়াতের অনুরোধে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহরের সঙ্গে ছিল।

‘পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা করার পরিকল্পনা ছিল’

রাশেদ খান দাবি করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছিল। তাঁর ভাষ্য, রাতে মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। তবে এসব লাঠি পরে গাড়িবহরে তোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

জামায়াতের গাড়িবহরে শীর্ষ নেতাদের দেওয়া স্লোগান নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেখানে এনসিপিকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

‘এনসিপির লং মার্চে জামায়াতের ভূমিকা’

রাশেদ খান বলেন, অনেকে মনে করছেন, এনসিপির লং মার্চে জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবল কাজ করেছে। তাঁর অভিযোগ, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝামাঝি অবস্থান থেকে রাজনৈতিকভাবে এগোতে চাইছে।

জামায়াত-শিবিরের কিছু নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁদের কেউ কেউ ভবিষ্যতে এনসিপি জামায়াতের জোট ছেড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

জোটের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য

জামায়াতের জোটে থাকা দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি—এ কারণেই তারা জামায়াতের সঙ্গে গেছে বলে তিনি মনে করেন।

মাওলানা মামুনুল হকের দলসহ অন্য দলগুলোর প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান দাবি করেন, পর্যাপ্ত আসন সমন্বয় করা হলে এসব দল ভবিষ্যতে বিএনপির সঙ্গে আবারও অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে।

জামায়াত যাদের ওপর ভরসা করে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করছে, ভবিষ্যতে তারাই দলটির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির পুরোনো বক্তব্যের প্রসঙ্গ

এনসিপির নেতাদের অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, অতীতে দলটির নেতারা জামায়াতকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তি, ‘ভারতের এক্সটেনশন’ এবং ‘ইসলামিক দল নয়’—এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।

ভবিষ্যতে এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আসে কি না, তা নথিবদ্ধ করে রাখার পরামর্শ দেন রাশেদ খান।

‘একদিন বলবেন, দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষলাম’

পোস্টের শেষ দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাশেদ খান বলেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি দলটিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও ‘জনশ্রুতি’ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়ে তিনি বলেন, একদিন জামায়াতের নেতাকর্মীরাই আফসোস করে বলবেন, ‘দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষলাম।’

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!