যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সুস্থ থাকতে সহায়ক হতে পারে ৭ ঘরোয়া উপায়

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ AM

২১
সুস্থ থাকতে সহায়ক হতে পারে ৭ ঘরোয়া উপায়

সুস্থ থাকতে জীবনযাপনে সচেতনতার বিকল্প নেই। তবে কিছু সাধারণ ঘরোয়া উপায় ছোটখাটো কিছু সমস্যা সামলাতে সহায়ক হতে পারে। এর মধ্যে পুদিনা, মধু, হলুদ, আদা, গ্রিন টি, রসুন এবং গরম পানিতে গোসলের কথা বলা হয়।

তবে কোনো ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ কিছু ঘরোয়া উপাদান ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

১. পুদিনা

পুদিনা দীর্ঘদিন ধরে নানা স্বাস্থ্যসমস্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পুদিনার তেল ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)–এর উপসর্গ, যেমন পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যে কিছুটা উপকার করতে পারে। মাথাব্যথার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা রয়েছে।

তবে অন্যান্য রোগে পুদিনার কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

২. মধু

কাশি কমাতে মধু কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর ওষুধ খাওয়ার বয়স হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা উপকারী হতে পারে।

তবে ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না। এতে বোটুলিজম নামের বিরল কিন্তু গুরুতর খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে।

অ্যালার্জি কমাতে মধু উপকারী—এমন প্রচলিত ধারণার পক্ষে গবেষণায় নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

৩. হলুদ

আর্থ্রাইটিসসহ কিছু শারীরিক সমস্যায় হলুদ উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ বিষয়ে কিছু প্রাথমিক গবেষণার ফলও রয়েছে।

তবে আলসার সারানো বা রেডিয়েশনের পর ত্বকের র‍্যাশ কমানোর মতো বিভিন্ন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। অতিরিক্ত হলুদ খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত ব্যবহারই ভালো।

৪. আদা

হাজার বছর ধরে এশীয় চিকিৎসাপদ্ধতিতে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাবের ক্ষেত্রে আদা ব্যবহার হয়ে আসছে। গবেষণায় বমি বমি ভাব ও বমি কমাতে এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাসিকের ব্যথা কমাতেও এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

তবে আদা খেলে কারও কারও পেটের সমস্যা, বুকজ্বালা, গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে। আবার কিছু ওষুধের কার্যকারিতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. গ্রিন টি

গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এসব উপাদান কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।

কিছু গবেষণায় গ্রিন টির সঙ্গে হৃদ্‌রোগ এবং নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

৬. রসুন

রসুন নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বেশি পরিমাণে রসুন খাওয়ার সঙ্গে কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনার সম্পর্ক রয়েছে। তবে রসুনের সাপ্লিমেন্টে একই ধরনের প্রভাব পাওয়া যায়নি।

রসুন রক্তের কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ কিছুটা কমাতেও সহায়তা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে এর প্রভাব খুব বেশি নয়।

৭. গরম পানিতে গোসল

উষ্ণ পানিতে গোসল পেশি, হাড় ও টেন্ডন–সম্পর্কিত কিছু সমস্যা, যেমন আর্থ্রাইটিস, পিঠ ও জয়েন্টের ব্যথায় আরাম দিতে পারে। উষ্ণ পানি শরীরের নির্দিষ্ট অংশে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে।

গরম পানিতে থাকার সময় হালকা স্ট্রেচিং বা মালিশও আরাম দিতে পারে। তবে পানি অতিরিক্ত গরম করা উচিত নয়, বিশেষ করে ত্বকের সমস্যা থাকলে। সাধারণভাবে ৯২ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে উষ্ণ পানি আরামদায়ক হতে পারে।

ঘরোয়া উপায় ব্যবহারে সতর্কতা

ঘরোয়া উপায় কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ কমাতে সহায়ক হলেও এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, তীব্র হলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!