যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিল্পকলার স্টুডিও থিয়েটারে মঞ্চস্থ হলো ‘মুক্তির আলো’ সমাজ-বাস্তবতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার নাট্যভাষ্য

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ AM

৬৫
শিল্পকলার স্টুডিও থিয়েটারে মঞ্চস্থ হলো ‘মুক্তির আলো’ সমাজ-বাস্তবতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার নাট্যভাষ্য

সমসাময়িক বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানবাধিকার সংকট, নিপীড়ন-বঞ্চনা এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে রচিত নাটক ‘মুক্তির আলো’ গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয়েছে। নাটকটি প্রযোজনা করেছে সেন্টার ফর বাংলাদেশ থিয়েটার (সিবিটি)।
নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব এম এ হামিদ। প্রযোজনাটির কস্টিউম ও মিউজিক নির্দেশনায় ছিলেন সর্দার আব্বাস উদ্দিন এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন তানজিদ আলম।
‘মুক্তির আলো’ মূলত একটি প্রতীকী ও সমকালীন রাজনৈতিক-সামাজিক নাট্যরূপ, যেখানে মানুষের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের বেদনা, ক্ষমতার অপব্যবহার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্র ও নাগরিক সম্পর্ক, সামাজিক বৈষম্য এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে নাটকীয় বিন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে। নাটকের শুরুতেই হারিয়ে যাওয়া মানুষের স্বজনদের হাহাকার দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। পরবর্তী দৃশ্যগুলোতে ক্ষমতার অহংকার, কারাগারের অন্ধকার বাস্তবতা, সামাজিক নিপীড়ন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের প্রতীকী চিত্রায়ণ দেখা যায়।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্র ও সংলাপ সমকালীন সময়ের নানা প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অধিকার, সত্য বলার সাহস এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা নাটকের কেন্দ্রীয় বক্তব্য হিসেবে প্রতিভাত হয়। নাটকের শেষ দৃশ্যে বৃষ্টির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের প্রতীকী উপস্থিতি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। সেখানে মুক্তি, ন্যায়বিচার এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নাটকের মূল বার্তা হিসেবে ফুটে ওঠে।
মঞ্চায়নে আলোক পরিকল্পনা, সংগীত, কস্টিউম এবং দৃশ্যান্তরের ব্যবহার নাটকটির আবহ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কস্টিউম ও সংগীতের সমন্বয় নাটকের আবেগঘন ও প্রতীকী মুহূর্তগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। একই সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারের অন্তরঙ্গ পরিবেশ নাটকের দর্শক-অভিনেতার দূরত্ব কমিয়ে এনে একটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
নাটকটি উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শক। মঞ্চায়ন শেষে দর্শকদের অনেকেই নাটকটির বিষয়বস্তু, সাহসী উপস্থাপনা এবং সমকালীন প্রাসঙ্গিকতার প্রশংসা করেন। তাদের মতে, ‘মুক্তির আলো’ কেবল একটি নাট্যপ্রযোজনা নয়; এটি সমাজের নানা সংকট, মানুষের বেদনা এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার শিল্পিত প্রকাশ।
সেন্টার ফর বাংলাদেশ থিয়েটার (সিবিটি)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজসচেতন ও সময়োপযোগী নাট্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও নতুন নতুন প্রযোজনা নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হবে। নাটকের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশে ভূমিকা রাখাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
নাট্যাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ের নানা বাস্তবতা ও মানুষের অনুভূতিকে নাট্যভাষায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে ‘মুক্তির আলো’ একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। শিল্পের মাধ্যমে সমাজকে প্রশ্ন করা এবং মানুষকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করার যে ঐতিহ্য বাংলা নাটকে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, এই প্রযোজনাও সেই ধারারই একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!