যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশজুড়ে অপরাধবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেপ্তার ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ AM

দেশজুড়ে অপরাধবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেপ্তার ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি

অপরাধ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো এবং পুলিশি সেবার প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সমন্বিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে সারা দেশে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং বিভিন্ন মামলায় ও নিয়মিত অভিযানে আটক করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৮১৭ জনকে।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় অপরাধ ও মাদক দমনে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি দেশীয় বিস্ফোরক, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং ১০ হাজারের বেশি চকলেট বোমা।

এ সময় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশীয় মদ এবং ৫ হাজার ৩৩৬ প্যাকেট গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, একই সময়ে মাদক-সংক্রান্ত ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা হয়েছে এবং ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সিসিটিভি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরো অংশ এখন সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা ডাকাতি, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কঠোর ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তাঁর ভাষায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি জানান, গত ১ মে থেকে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অংশ নিচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বড় মাদকচক্র ভেঙে দেওয়া, আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা।

এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের অপরাধ দমনে কঠোর থাকার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে আচরণে মানবিকতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদও কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নেই। আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের পক্ষপাতের সুযোগ নেই।

ডিএমপি জানায়, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ জন অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!