যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

চামড়ার বর্জ্য থেকে জেলাটিন-কোলাজেন উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ AM

১১
চামড়ার বর্জ্য থেকে জেলাটিন-কোলাজেন উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু

চামড়া শিল্পের বর্জ্যকে সম্পদে রূপ দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি মূল্য সংযোজন ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চামড়ার বর্জ্য থেকে প্রোটিন ফিলার, জেলাটিন ও কোলাজেন উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ লক্ষ্যে সাভারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জে ডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোং লিমিটেড। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, ক্রোম পৃথক করে (ক্রোম সেপারেশন) প্রোটিন ফিলার উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

বিসিক জানায়, সাভারের নয়ারহাট এলাকায় নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন করে কারখানাটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে। সেখানে ট্যানারির বর্জ্য, বিশেষ করে চামড়ার টুকরা ও ক্রোম শেভিং ডাস্ট পুনর্ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জেলাটিন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোটিন পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছে। এসব পণ্য চীন ও রাশিয়ায় রপ্তানিও হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির দোভাষি পারভেজ খান বলেন, কারখানার নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। কাজ সম্পন্ন হলে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদিত সব ধরনের চামড়ার বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা তৈরি হবে।

তিনি জানান, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে বছরে প্রায় ২০ হাজার টন চামড়ার বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য থেকে জেলাটিন এবং ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত ক্যাপসুল তৈরির কাঁচামাল উৎপাদনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

বিসিকের লেদার সেলের প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চামড়া শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি শিল্পে নতুন মূল্য সংযোজন হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়বে।

বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, চামড়া বর্জ্য পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অরিয়ন ট্রেডিং করপোরেশন, আইয়ুব ব্রাদার্স ট্যানারি লিমিটেড, রেজা লেদার এক্সপোর্ট, এ এন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড, আলমগীর লেদার কমপ্লেক্স এবং ফেনী ট্যানারি প্রাইভেট লিমিটেড।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চামড়া শিল্পের বর্জ্যকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাজে লাগানোর এ উদ্যোগ সফল হলে দেশের চামড়া খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!