যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘আবু সাঈদরা প্রতিদিন জন্ম নেন না, যুগে যুগে একজন আসেন’: ফরহাদ হোসেন আজাদ

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ AM

‘আবু সাঈদরা প্রতিদিন জন্ম নেন না, যুগে যুগে একজন আসেন’: ফরহাদ হোসেন আজাদ

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, “আবু সাঈদরা প্রতিদিন জন্মগ্রহণ করেন না, যুগে যুগে একজনই আসেন। টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে সেদিন আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর সেই সাহসী অবস্থান বাংলাদেশকে নতুন করে মুক্তির পথ দেখিয়েছে।”

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই শহীদ দিবস ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, রংপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক সমতার ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাজেটের মাধ্যমে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ রংপুর অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন হবে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মামলার রায় হয়েছে, তবে তা এখনো কার্যকর হয়নি। আবু সাঈদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আবু সাঈদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সব রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

জুলাইয়ের আন্দোলন প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “এটি শুধু একটি আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।”

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহীদেরা যে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে আইনের শাসন, সুশাসন, মানবিক মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্মরণসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!