মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। রবার্ট লেভানডোভস্কি, ফেরান তোরেস ও মার্কাস র্যাশফোর্ড চলে যাওয়ায় একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এ কারণে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়াতে চেষ্টা করেছিল কাতালান ক্লাবটি। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুস গ্যাব্রিয়েলের সঙ্গে চুক্তি করেছে বার্সেলোনা। আলভারেজকে না পাওয়ার পর তাঁকেই দলে নেওয়া হয়েছে। গতকাল ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে বার্সেলোনার হয়ে অভিষেকও হয়েছে তাঁর।
তবে নতুন স্ট্রাইকারের ঘাটতি থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। লা লিগায় চার ম্যাচে বার্সেলোনা করেছে ১৭ গোল। এর মধ্যে তিন ম্যাচেই পাঁচটি করে গোল করেছে দলটি।
গোল করার দিক থেকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাফিনিয়া। অস্থায়ী স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেও চার ম্যাচে তাঁর গোল ছয়টি। লামিন ইয়ামাল ও ফারমিন লোপেজ করেছেন চারটি করে গোল।
এমন গোলবন্যার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বার্সেলোনার কি সত্যিই নতুন স্ট্রাইকার প্রয়োজন?
বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক অবশ্য মনে করেন, দলের সাম্প্রতিক গোল করার সামর্থ্য স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিচ্ছে না। তাঁর মতে, একজন ‘প্রকৃত ৯ নম্বর’ এখনো দলের প্রয়োজন।
ফ্লিক বলেন, ‘এটা আমাদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনছে না। আমাদের সাধারণত সত্যিকারের একজন ৯ নম্বর দরকার, এটা স্পষ্ট। কিন্তু আক্রমণভাগে, এমনকি মাঝমাঠেও আমাদের অনেক সামর্থ্যবান খেলোয়াড় আছে। প্রত্যেকেই গোল করতে পারে।’
অর্থাৎ চার ম্যাচে ১৭ গোল করলেও একজন নিয়মিত স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বার্সেলোনা কোচ। রাফিনিয়া, ইয়ামাল কিংবা ফারমিনরা গোলের উৎস হয়ে উঠলেও পুরো মৌসুমে আক্রমণভাগের ভারসাম্য ধরে রাখতে একজন স্বীকৃত ‘নম্বর নাইন’কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ফ্লিক।
তাই মৌসুমের শুরুতে গোলের বন্যা বইলেও নতুন স্ট্রাইকারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বার্সেলোনার ভাবনা এখনো বদলায়নি।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!