বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর আশ্রয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, অন্য দলের সমালোচনা করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের ভেতরের বিষয়ও পর্যালোচনা করা উচিত।
রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ সভার আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অভিযোগ ওঠার পর নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, “কোনো দলের মধ্যে অপরাধী প্রবেশ করতে পারে। প্রশ্ন হলো, দলটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না।” তাঁর ভাষ্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিএনপি সাংগঠনিক পদমর্যাদা বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নিয়েছে।
জামায়াতের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করলেই কেউ সমালোচনার ঊর্ধ্বে চলে যায় না। জনগণ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিষয়টি পছন্দ করে না।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য কিংবা ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। একইভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
সভায় সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করার পাশাপাশি বিশ্বের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক অর্জন থেকেও শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তবে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বা দেশীয় সংস্কৃতিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।
জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!