যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ৬ জুন ২০২৬, শনিবার ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:১১ AM

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভিত্তিতে পুনর্গঠনের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু সংকট বর্তমানে সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, দাবদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বজুড়ে পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব ও জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধি দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমন্বিত নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হচ্ছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির প্রতিপাদ্য বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানায়।

বাণীতে তিনি সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!