জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও সমর্থনের ফল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সিদ্ধান্ত ও নিঃশর্ত সহযোগিতা না থাকলে অল্প সময়ে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিজয় বাংলাদেশের। এ বিজয় প্রধানমন্ত্রীরও। তিনি যদি এই উদ্যোগ না নিতেন এবং আমাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন না দিতেন, তাহলে দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতির কাজ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ অর্জনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বের পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নতির কারণে একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’ দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এর আগেও এমন নজির রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮৬-৮৭ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী একই সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহীদও ২০২১ সালে ইউএনজিএর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রীর দায়িত্ব বজায় রেখেছিলেন।
গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ভোটে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রিয়াস এস. কাকোরিসকে পরাজিত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন খলিলুর রহমান। ভোটে তিনি ৯৯ ভোট পান, আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পান ৯১ ভোট।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেল। এর আগে ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া ৮১তম অধিবেশনে এক বছরের জন্য সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ড. খলিলুর রহমান। তাঁর এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!