জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, খাল খননের মাধ্যমে জলাধার সৃষ্টি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ নগরায়ণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। এর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার কারণে দেশের জনজীবন, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জলাধার সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু ও পরিবেশ সংকট মোকাবিলা শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাত, গবেষক, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, বাসযোগ্য ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাণীতে তিনি পরিবেশ দূষণ রোধ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে বাংলাদেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের আয়োজনকে স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতি বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!