যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাইবার আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ AM

৬
সাইবার আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ কোনোভাবেই দমনমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই আইনের অপব্যবহার থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রস্তাবিত আইনটির খসড়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইটি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকার সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করেই আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। মন্ত্রিসভার নির্দেশনার পর জনমত সংগ্রহের জন্য খসড়াটি সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাইবার-স্পেস ব্যবহারকারীদের মতামত সরকার পর্যালোচনা করছে।

সাংবাদিকদের সুরক্ষার প্রস্তাব

সভায় দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেন, আইনটি যেন সাংবাদিকদের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে এবং এতে ‘সেভিং ক্লজ’ বা সুরক্ষা বিধানসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ রাখা হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আরও আলোচনার প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

সভায় আলোচিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাঁকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ দেবেন। এরপর খসড়া আইনে তা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আইন চূড়ান্ত করার আগে আরও মতামত

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানুষ যাতে অনির্দিষ্টকাল আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে না থাকে, সে জন্য মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

পরামর্শ প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে (পিআইও) ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিষয়টি তদারক করবে।

পরবর্তী ধাপে গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ নেওয়া হবে। এসব সুপারিশ পর্যালোচনার পর সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে আবার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এতে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা পুনরায় মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে বিলটি আন্তমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। অনুমোদন হলে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে আইনটি সংসদে পাস করাবে না। চূড়ান্ত করার আগে সংসদীয় আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে উঠে আসা মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও স্থানীয় সংস্কৃতি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি দেশ ও নাগরিকদের, বিশেষ করে তরুণদের, সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!