বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের একটি বাজারের কাছে বিমান হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গতকাল সোমবার দুপুরে কিয়াউকতাও শহরের ওই বাজার এলাকায় এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আরাকান আর্মি। সংগঠনটির দাবি, একটি যুদ্ধবিমান থেকে বাজারের কাছে দুটি বোমা ফেলা হয়। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবসায়ী, দোকানি, ক্রেতা ও পথচারী রয়েছেন।
কিয়াউকতাও বর্তমানে মিয়ানমারের শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সংগঠনটি জানিয়েছে, হামলার সময় বাজারে বেশ ভিড় ছিল। রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সেখানে কেনাকাটা করতে আসেন।
রাখাইনের জ্যেষ্ঠ উদ্ধারকর্মী ওয়াই হুন অংও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কিয়াউকতাওয়ের ওই বাজারটি অঞ্চলের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার। হামলার পর সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে বাজারের কয়েকটি ভবন ও যানবাহনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। কাছের একটি সেতুরও অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে।
তবে হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটির সামরিক বাহিনী অতীতে জানিয়েছে, তারা কেবল বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং প্রতিরোধকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেছে। হামলার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
রাখাইনে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ
মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে আরাকান আর্মি। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে সংগঠনটি রাখাইনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে।
এখন পর্যন্ত রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ আরাকান আর্মির হাতে গেছে বলে জানিয়েছে এপি। কিয়াউকতাওও এসব এলাকার একটি।
সাম্প্রতিক হামলাটি রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে রাখাইনের ম্রাউক-উ শহরের একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল এপি।
সূত্র: এপি, ইন্ডিয়া টুডে
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!