জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘পারসুয়িং ক্লাইমেট জাস্টিস থ্রু ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে।
তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমঞ্চে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো করা এবং পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সুফল তুলে ধরতে কপ-৩১সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামকে কাজে লাগাবে বাংলাদেশ।
জলবায়ু কূটনীতি জোরদার এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো পৃথক ‘জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ’ খোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে।
নারী ও শিশুরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় তাদের ঝুঁকি ও সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা স্পষ্ট জানাব যে, এদের সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। পাশাপাশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাটজাত পণ্যের ব্যবহার ও সুবিধার কথাও তুলে ধরব।’
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য প্লাস্টিকসহ অন্যান্য দূষণকারী উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
আলোচনা সভায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের আরও কার্যকর জলবায়ু কূটনীতি পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্রাইটার্স, সিপিআরডি ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে কয়েকটি সংস্থার সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!