যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

মক্কার আকাশে হুথির ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদির

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ AM

মক্কার আকাশে হুথির ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদির

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শহর মক্কা লক্ষ্য করে হুথি বাহিনী একটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ড্রোনটি কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া সৌদি জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি এক বিবৃতিতে বলেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার আকাশসীমায় একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন শনাক্ত করা হয়। পরে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।

তুরকি আল-মালকি বলেন, ‘কাবা, মসজিদে নববি এবং দুই পবিত্র মসজিদে আগত মুসল্লিরা সৌদি আরবের রেড লাইন। যে কোনো মূল্যে আমরা তাদের রক্ষা করব।’

সৌদি জোটের এই মুখপাত্র আরও বলেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কা লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল হুথিরা। সেটিও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়েছিল বলে দাবি সৌদি কর্তৃপক্ষের।

হুথিদের অস্বীকার

মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি বাহিনী। তুরকি আল-মালকির বিবৃতির পর মঙ্গলবার রাতে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সিতে হুথিদের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

হুথি বাহিনীর হাইকমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মক্কায় হুথি বাহিনীর হামলার যে তথ্য প্রচার হয়েছে—তা পুরোপুরি ভুয়া এবং অসত্য।’ ইয়েমেনের পক্ষ থেকে মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার হুমকি রয়েছে—এমন অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুথিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।

দীর্ঘদিনের সংঘাত

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর সংঘাতের শুরু ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর। পরের বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে চলে যান। তাঁর সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর কয়েক বছর তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা বেড়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!