যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মানসিক চাপ থেকে হতে পারে মাথাব্যথা, যেভাবে কমাবেন

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ AM

৩৮
মানসিক চাপ থেকে হতে পারে মাথাব্যথা, যেভাবে কমাবেন

সকালের ব্যস্ততার মধ্যে হঠাৎ মাথা দপদপ করতে শুরু করলে অনেকেই বিষয়টি সাধারণ ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যান। তবে এর পেছনে মানসিক চাপও বড় কারণ হতে পারে। টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের অন্যতম সাধারণ কারণ মানসিক চাপ। আবার এটি অন্য ধরনের মাথাব্যথার তীব্রতাও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা মাথাব্যথা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

আরাম করার সময় রাখুন

মানসিক চাপ কমাতে নিজের পছন্দের কাজের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখুন। গান শোনা, নাচ, খেলাধুলা, বই পড়া কিংবা পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো হতে পারে আরামের উপায়। দিনে মাত্র ১০ মিনিট হলেও এ জন্য আলাদা সময় রাখার চেষ্টা করুন।

কাজের চাপ কমান

প্রতিদিনের করণীয় তালিকা অযথা বড় করবেন না। কোন কাজটি এখনই করা প্রয়োজন, কোনটি পরে করা যাবে এবং কোন কাজটি আদৌ করার দরকার নেই—তা ঠিক করে নিন। সব দায়িত্ব একসঙ্গে নিজের ওপর না নেওয়াই ভালো।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

মাথাব্যথা প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যায়াম দৈনন্দিন জীবনের মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। তবে হঠাৎ করে তীব্র ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে শরীর গরম করে ব্যায়াম করা উচিত। আকস্মিকভাবে কঠিন ব্যায়াম করলে উল্টো মাথাব্যথা হতে পারে।

খাবার ও ঘুমে নজর দিন

ফল, শাকসবজি ও শস্যদানা সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন। এসব খাবার শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ সামলাতেও সহায়ক হতে পারে।

মানসিক চাপের কারণে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। আবার ঘুমের ঘাটতি মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে চাপ তৈরি হয় এবং অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।

কাছের মানুষের সহযোগিতা নিন

কঠিন সময় পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলুন। সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা কিংবা প্রয়োজন হলে তাঁদের সহযোগিতা নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজন মনে হলে থেরাপিস্টের সঙ্গেও কথা বলা যেতে পারে।

সময় ব্যবস্থাপনা করুন

কর্মক্ষেত্র ও বাড়ি—দুই জায়গাতেই প্রতিদিনের কাজের তালিকা হালনাগাদ করুন। সম্ভব হলে কিছু কাজ অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দিন। বড় কোনো কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে একবারে একটি কাজ শেষ করুন।

আগেই প্রস্তুতি নিন

দিনের কাজ আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন। সম্ভাব্য সমস্যাগুলোও আগেভাগে অনুমান করার চেষ্টা করুন। তবে পরিকল্পনা খুব কঠোর না রেখে নমনীয় রাখুন। এতে হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানো সহজ হবে।

যা নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে ভাবনা কমান

নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করার চেষ্টা করুন। নেতিবাচক চিন্তার পরিবর্তে ইতিবাচকভাবে পরিস্থিতি দেখার অভ্যাস করুন। এতে চাপপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে। প্রয়োজন হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপিও সহায়ক হতে পারে।

মাঝেমধ্যে বিরতি নিন

অতিরিক্ত চাপ অনুভব করলে কাজ থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিন। ধীরগতির স্ট্রেচিং, একটু হাঁটাহাঁটি কিংবা শান্ত কোনো জায়গায় কিছু সময় কাটানো মনকে স্বস্তি দিতে পারে এবং কাজে নতুন উদ্যম ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।

হাসুন, আনন্দের সময় কাটান

হাসিও মানসিক চাপ কমানোর একটি সহজ উপায়। হাসলে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, যা ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতে এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই মজার সিনেমা দেখা বা হাসির বই পড়ার মতো কাজও করতে পারেন।

রুটিনে পরিবর্তন আনুন

প্রতিদিনের একই রুটিন থেকে মাঝেমধ্যে বেরিয়ে আসুন। নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। ছুটি বা সপ্তাহান্তে কোথাও ঘুরতে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!