হংকংয়ের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তি, সবুজ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল, জুতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে হংকং জেনারেল চেম্বার অব কমার্সের (এইচকেজিসিসি) চেয়ারম্যান ড. জ্যাকব কাম-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুবিধা
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিদেশি বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলসহ (সিইআইজেড) বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের কর অবকাশ, শুল্কমুক্ত সুবিধায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস। এসব সুবিধার ফলে বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে সহজে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
২০০ কোটি ডলারের তহবিলে বিনিয়োগের আহ্বান
অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ‘বাংলাদেশ তহবিল’-এ হংকংয়ের পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, তাজা ফল, পাটজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য রপ্তানি বাড়াতে হংকংয়ের বাজারকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও হংকংয়ের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এফবিসিসিআই, এমসিসিআই ও ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে হংকংয়ের ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৭ সালের শুরুতে হংকংয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
এর আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান, কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদ এবং ‘ইনভেস্ট হংকং’-এর মহাপরিচালক আলফা লাউয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
১৯৭৬ সালে হংকংয়ে বাংলাদেশের ট্রেড কমিশন চালুর মাধ্যমে দুই পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয়। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হবে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!