যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ AM

২৯
দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ

দুই বছরের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি ডলারে। অর্থাৎ দুই বছরে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার।

একই সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ১ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ১৫৩ কোটি ডলার। এই হিসাবে বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৬৭ কোটি ডলার।

বৈদেশিক খাতে উন্নতির প্রভাব

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ ও তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং আমদানি চাহিদা তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকায় রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে।

বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার কিনেছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ পুনর্গঠনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা এসেছে।

তবে আমদানি বিল পরিশোধ ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় মেটানোর কারণে বিভিন্ন সময়ে রিজার্ভে ওঠানামা হয়েছে। এরপরও সামগ্রিকভাবে গত দুই বছরে রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

এক বছরে আরও বেড়েছে রিজার্ভ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৪৩ কোটি ডলার। একই সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার।

চলতি বছরের জুনের শেষে গ্রস রিজার্ভ আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৫৮ কোটি ডলারে। ওই সময় বিপিএম৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৯৩ কোটি ডলার।

‘বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতির উন্নতির কারণেই দেশের রিজার্ভ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সময়ে কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়েছে।

আমদানি ও বৈদেশিক দায় পরিশোধে আস্থা বাড়ছে

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসার জন্য ইতিবাচক।

তাঁর মতে, শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতার বিষয়ে আস্থা বাড়ায়।

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘রিজার্ভ বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। এতে বোঝা যায়, ডলারের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন দায় পরিশোধে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপও কিছুটা কমেছে।’

তবে এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ও বৈদেশিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে সতর্ক ও বিচক্ষণ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!