যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পেশাগত নিবন্ধন ও ১০ম গ্রেডসহ ৪ দফা দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের সংবাদ সম্মেলন

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩ PM

৩২
পেশাগত নিবন্ধন ও ১০ম গ্রেডসহ ৪ দফা দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের সংবাদ সম্মেলন

পেশাগত নিবন্ধন, ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ কোর্সের নাম পরিবর্তন করে ‘ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল’ করা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ পুনরায় চালু, সরকারি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ এবং ১০ম গ্রেড প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা।
রোববার (১০ আগস্ট) ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে আগামী ১২ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের মাধ্যমে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে ২৩টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) এবং বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর ৫০০ থেকে ৬০০ শিক্ষার্থী এ কোর্স সম্পন্ন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে কোর্সটি চালু থাকলেও ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধন এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধনের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কার্যকর সমাধান হয়নি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে পরিচালিত অন্যান্য সমশিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ডিপ্লোমাধারীরা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের মাধ্যমে পেশাগত নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটিকে তারা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় চূড়ান্তকৃত নির্ধারিত ওয়ার্কিং সার্কেলের আলোকে তৃণমূল পর্যায়ে দন্তসেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পেশাগত নিবন্ধন না থাকায় ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা বিভিন্ন ধরনের পেশাগত প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্নকারীদের জন্য একটি সুস্পষ্ট পেশাগত পরিচয় ও নিবন্ধন নিশ্চিত করা জরুরি।
‘ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল’ নামকরণের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল)’ কোর্সের নাম পরিবর্তন করে ‘ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল’ করার বিষয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-২ শাখা থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিবের কাছে মতামত চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট আটটি সরকারি আইএইচটির অধ্যক্ষ ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরদের মতামত নেওয়া হয়।
তাদের দাবি, আটটি সরকারি আইএইচটির মধ্যে সাতটির অধ্যক্ষ ও কোর্স কো-অর্ডিনেটর ‘ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল’ নামকরণের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে পত্র পাঠায়। পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও মতামত চাওয়া হয়। তবে এখনো বিষয়টির কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানান তারা।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ চালুর দাবি
সংগঠনের মুখপাত্র তানজিনা ইয়াসমিন মারিয়া বলেন, ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। তাদের দাবি, ১৯৭৮ সালে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বিডিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে এ সুযোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে আইএইচটি ঢাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পুনরায় চালুর জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কার্যকর কাঠামো তৈরি হয়নি।
বক্তারা বলেন, চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্নকারীদের জন্য ল্যাটারাল এন্ট্রির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য এ ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। তাই ল্যাটারাল এন্ট্রি ফ্রেমওয়ার্ক এবং প্রয়োজনীয় ক্রেডিট মওকুফ নীতির মাধ্যমে তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পুনরায় চালু করতে হবে।
শূন্যপদে নিয়োগ ও ১০ম গ্রেড দাবি
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পদসংখ্যা প্রায় ৬৫০টি। বিপরীতে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না হওয়ায় কর্মসংস্থানপ্রত্যাশী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
এ অবস্থায় সরকারি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি এবং অন্যান্য সমমানের ডিপ্লোমাধারীদের মতো ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের চাকরিতে ১০ম গ্রেড দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
ধারাবাহিক কর্মসূচি
দাবি বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১২ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি প্রদান, ১৬ আগস্ট ছাত্র-পেশাজীবী সমন্বয় সভা, ১৯ আগস্ট সংশ্লিষ্ট জেলার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও ‘র‍্যালি ফর রিকগনিশন’, ২৩ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান এবং ৩০ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদে অবস্থান কর্মসূচি।
বক্তারা জানান, এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করা হবে। নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যেও দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ছাত্র-পেশাজীবীদের সমন্বয়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘আমরা কোনো পেশার বিরুদ্ধে নই, আমরা কারও অধিকার কেড়ে নিতে চাই না। আমরা চাই, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত চার বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করার পর আমাদের পেশাগত পরিচয়, নিবন্ধন, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা হোক।’
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে দন্তসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবিগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!