যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

আইন প্রয়োগে কঠোরতা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা: রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের নতুন সক্রিয়তা

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩২ AM

৬৩
আইন প্রয়োগে কঠোরতা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা: রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের নতুন সক্রিয়তা

ড্যাপ বাস্তবায়ন, অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান, সেবায় ডিজিটাল রূপান্তর—ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি।

ঢাকা: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, নকশাবহির্ভূত ভবন এবং জলাধার দখলের অভিযোগে সমালোচিত ছিল। তবে চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটিতে প্রশাসনিক কঠোরতা, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে নতুন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।
রাজউকের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়ন এবং অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের অভিযান জোরদার

চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নকশাবহির্ভূত ভবন, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
রাজউক সূত্র জানায়, আইন প্রয়োগে আগের তুলনায় দৃঢ়তা এসেছে। প্রভাবশালী মালিকানাধীন ভবনেও অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে নগর পরিকল্পনা আইন বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

ড্যাপ (২০২২–২০৩৫) বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার

ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নকে রাজউকের বর্তমান নেতৃত্ব বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, ভবনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পিত কাঠামো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ড্যাপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রাজউকের সেবায় ডিজিটাল রূপান্তর

রাজউকের সেবাপ্রদান প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তর ও অন্যান্য নাগরিক সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাইলের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল—নকশা অনুমোদনে বিলম্ব ও হয়রানি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন সেবা চালুর ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ছে।

পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্পে অবকাঠামোগত গতি

পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে সড়ক, ড্রেনেজ, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে স্থবির প্রকল্পগুলোতে গতি এসেছে বলে দাবি রাজউকের।

প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, অবকাঠামোগত কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় জোরদার তদারকি

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজউকে অভ্যন্তরীণ তদারকি বাড়ানো হয়েছে। নির্দিষ্ট হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা রাজউকের প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্ব

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজউকের চেয়ারম্যানের ভূমিকা কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নীতি বাস্তবায়নের নেতৃত্ব। অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, ড্যাপ বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ—এই পদক্ষেপগুলো তাঁর নেতৃত্বকে দৃশ্যমান করেছে।
তবে এই গ্রহণযোগ্যতা টেকসই করতে হলে ধারাবাহিক অভিযান, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ঢাকার দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানজট ও অবকাঠামোগত চাপের বাস্তবতায় রাজউকের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজুর নেতৃত্বে শুরু হওয়া প্রশাসনিক সংস্কার, আইন প্রয়োগ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু ড্যাপ ২০২২-২০৩৫ অবৈধ ভবন অভিযান রাজউক নকশা অনুমোদন পূর্বাচল প্রকল্প ঝিলমিল আবাসন রাজউক ডিজিটাল সেবা ঢাকা নগর পরিকল্পনা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!