প্রযুক্তির ব্যবহারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তি হবে মানুষের জন্য, আর সেবা হবে সহজ, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর টিসিবি সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক পর্যায় থেকে কোনো পণ্য খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর দামের একটি ব্যবধান তৈরি হয়। আবার সাময়িক সরবরাহ ঘাটতিও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তির ব্যবহারে টিসিবির সেবায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চলতি অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকির অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টিসিবির সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ‘উপকারী’ নামে নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা প্রচলিত কার্ডের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও টিসিবির সেবা নিতে পারবেন। এনক্রিপ্টেড কিউআর কোডের মাধ্যমে উপকারভোগীর পরিচয় ও পণ্য পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হবে। ফলে কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও উপকারভোগী পণ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।
পণ্য বিক্রি ও বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে ‘অল-ইন-ওয়ান পিওএস’ মেশিন চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাই, অনলাইন পেমেন্ট এবং তাৎক্ষণিক বিক্রয় রশিদের ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কোথায় কত পণ্য বিক্রি হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার কাজও অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. খালেদ হোসেন মাহবুব এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!