প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের দীর্ঘদিনের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং ১৭ আগস্টের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি শিল্প রক্ষা এসোসিয়েশন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৯ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগে কাফনের কাপড় পরে রাজপথ অবরোধ ও আমরণ অনশনের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক শীর্ষ আলোচনা সভা ও গোলটেবিল বৈঠকে সংগঠনের প্রধান জনাব মফিজুল ইসলাম মল্লিক এই ঘোষণা দেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ছয় বছর ধরে প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও আজও তাদের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং মুরগির খাদ্য, বাচ্চা ও ওষুধের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের প্রান্তিক খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং কর্পোরেট পোল্ট্রি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকার যোগাযোগ রাখলেও প্রান্তিক খামারিদের সমস্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
প্রধান অতিথি আরও অভিযোগ করেন, তেজগাঁওভিত্তিক একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিম ও মুরগির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদেরও বেশি দামে ডিম ও মুরগি কিনতে হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত সরকারি তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পোল্ট্রি শিল্পের বিদ্যমান সংকট নিয়ে আলোচনা করতে চায়। একই সঙ্গে ১৭ আগস্টের মধ্যে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করলে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে আগামী ২৯ আগস্ট শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সারা দেশ থেকে প্রান্তিক খামারিদের কাফনের কাপড় পরে সমবেত হয়ে রাজপথ অবরোধ ও আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংগঠনের ৬ দফা দাবি
সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত দাবিগুলো হলো—
ব্রয়লার মুরগির ৫০ কেজি খাদ্যের বস্তার দাম ২,০০০–২,১০০ টাকা এবং লেয়ার ও সোনালীসহ অন্যান্য খাদ্যের দাম ১,৭০০–১,৮০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ ও খাদ্যের মান নিশ্চিত করা।
ব্রয়লার ও লেয়ারসহ সব ধরনের মুরগির বাচ্চার মূল্য বছরজুড়ে ২০–২৫ টাকার মধ্যে রাখা এবং বাচ্চার গুণগত মান বৃদ্ধি করা।
খাদ্য ও বাচ্চা উৎপাদনকারী কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে রেডি মুরগি ও ডিম উৎপাদন থেকে বিরত রাখা।
প্রান্তিক খামারিদের সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা।
একজন খামারি সর্বোচ্চ ১০ হাজার মুরগির বেশি নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে রেডি মুরগি ও ডিম উৎপাদন করতে না পারা।
সরকারি হ্যাচারিতে ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালী মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্যে খামারিদের কাছে সরবরাহ করা।
সংগঠনের দাবি, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক খামারিরা লাভজনক উৎপাদনে ফিরতে পারবেন, ভোক্তারা সহনীয় মূল্যে নিরাপদ ডিম ও মুরগির মাংস কিনতে পারবেন এবং দেশের পোল্ট্রি খাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী হবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!