ঢাকা, ১১ জুলাই: দেশকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা জোরদারের লক্ষ্যে ‘মাদকমুক্ত গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মানবাধিকার, আইন, বিচার, আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
প্রধান আলোচক ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা।
আলোচনায় অংশ নেন জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, সিআইডির প্রধান আলী আকবর খান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মো. মহসীন মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মো. খালিদ হোসেন, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু তৌহিদ ভূঁইয়া প্রিন্স এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল আলিম।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থার পরিচালক পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির মহাসচিব মো. নূরুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, মাদক আজ দেশের যুবসমাজ, পরিবার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অন্যতম বড় হুমকি। মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা, সমাজ উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত অতিথিরা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠে সরকারের চলমান উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সচেতন নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করেই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী এবং তরুণরা অংশ নেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!