যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ৬ মে ২০২৬, বুধবার ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

কুকি-চিনের পোশাক জব্দ মামলায় জালিয়াতি, বেঞ্চ অফিসার বরখাস্ত

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৬:১৭ AM

১০
কুকি-চিনের পোশাক জব্দ মামলায় জালিয়াতি, বেঞ্চ অফিসার বরখাস্ত

কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য তৈরি পোশাক জব্দের মামলায় জামিন জালিয়াতির ঘটনায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসার জাকির হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে জামিন জালিয়াতির এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়া হয় এবং পরে সেই জামিন আদেশে কারচুপি করে মামলার নম্বর ও থানার নাম পরিবর্তন করা হয়। ওই জাল আদেশ কারাগারে দাখিলের পর চট্টগ্রামের ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর মালিক সাহেদুল ইসলাম কারাগার থেকে মুক্তি পান।

প্রায় সাত মাস আগে ঘটলেও ঘটনাটি সম্প্রতি সামনে আসে আরেক আসামির জামিন আবেদনের সময় বিষয়টি নজরে আসার পর। পরে বিষয়টি রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনেন।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অগ্রগতি চলছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসার বা ফৌজদারি শাখার অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের জালিয়াতি প্রশাসনিক সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় রিংভো অ্যাপারেলসের একটি গুদাম থেকে কেএনএফের জন্য তৈরি ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুল ইসলাম, পোশাক তৈরির ক্রয়াদেশদাতা গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দারকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে পোশাক তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল।

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামে সশস্ত্র সংগঠনটি ২০২২ সালের দিকে আলোচনায় আসে। বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রো জনগোষ্ঠীর কিছু সদস্যকে নিয়ে সংগঠনটি গঠিত বলে দাবি করা হয়। পরে এটি স্থানীয়ভাবে ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিতি পায়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!