কোনো ধরনের তদবির বা উৎকোচ ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনাকে গত দুই দশকের মধ্যে বিরল দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের এই অভিজ্ঞতা সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হলে নবনিয়োগপ্রাপ্ত পেশকারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর হেলাল বলেন, কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা ব্যয়ে চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতা নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ভূমি প্রশাসনে অতীতে কিছু ব্যক্তির অনিয়মের দায় পুরো ব্যবস্থাপনাকে বহন করতে হয়েছে। তাই নতুন কর্মকর্তাদের সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। তাই জনগণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হয়রানিমুক্ত ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া নতুন পেশকারদের সততা ও মানসিকতা আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, সমাজে বৈষম্য কমানো, দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নবনিয়োগপ্রাপ্তদের পক্ষে কয়েকজন বক্তব্য দিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জেড এম সালাহউদ্দিন নাগরীসহ ভূমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!