ঢাকা, ৪ জুলাই: সমাজে মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে রাজধানীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে আলোর প্রভাত ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী নাগরিক পরিষদ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ র্যালি মাতুয়াইল ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা সংলগ্ন পীর সাহেবের বাড়ি জামে মসজিদ মার্কেটে অবস্থিত আলোর প্রভাতের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোনাপাড়া শপিং কমপ্লেক্সের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, তরুণ-যুবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ‘নেশা ছেড়ে কলম ধরি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি’সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। পথচারী, যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরাও করতালির মাধ্যমে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় হুমকি। মাদকের ছোবলে শিশু, কিশোর ও তরুণদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে। তাই মাদক কারবারি, সরবরাহকারী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকেও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরিয়ার স্টিল মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ এবং যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাজু। তাঁরা মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
র্যালির আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ খান হিমো বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চলবে।”
এ সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক মাজাহার হোসেন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বাবলু, আলোর প্রভাতের সভাপতি ইউসুফ খানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। “মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!