যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ AM

১৯
জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ আলাদা করে শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ, জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।

একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতা ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ জ্বরে প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। তবে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ও গিরায় গিরায় ব্যথা কিংবা ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২০ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৯১১ জন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়। বিশেষ করে শিশুদের পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও তরল খাবার দিতে হবে এবং বাইরে গেলে তাদের ফুলহাতা পোশাক ও মোজা পরানোর পরামর্শ দেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর পাশাপাশি করোনা ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ রয়েছে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতি বছর ডেঙ্গুর পুনরাবৃত্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও অল্প গভীর জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। ফুলের টব, টায়ার, ছাদের পাত্র কিংবা বারান্দায় জমে থাকা পরিষ্কার পানি এ মশার প্রধান প্রজননস্থল। তিনি জানান, সূর্যোদয়ের পরের দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের কয়েক ঘণ্টা এডিস মশা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। তাই এ সময় বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, বর্তমানে ডেনভ-৩ সেরোটাইপের সংক্রমণে রোগীদের মধ্যে দ্রুত জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!