ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি।
শনিবার সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ল্যাব’ এবং ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু একটি আধুনিক প্রযুক্তি নয়; এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং একটি দেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই দেশের তরুণদের এআই-ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এআই গবেষণা ল্যাবগুলো গবেষণা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসব ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা, নতুন প্রোটোটাইপ তৈরি এবং শিল্পখাতের বাস্তব সমস্যার সমাধান উদ্ভাবনের সুযোগ পাবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি-দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন এআই গবেষণা ল্যাব দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বাড়াবে। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে, যা দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এআই-ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ১৪৫টি এআই প্রকল্পের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় এবং সেরা প্রকল্পগুলোকে সরকার ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্টার্টআপ ফান্ডসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
উদ্বোধন হওয়া আধুনিক এআই গবেষণা ল্যাবে রয়েছে ২৫টি NVIDIA DG Spark কম্পিউটিং ইউনিট এবং RTX 3060 ও RTX 4090 জিপিইউসমৃদ্ধ পাঁচটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ার্কস্টেশন। এখানে পাঁচজন পূর্ণকালীন গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে গবেষক দল ‘এআই প্রফেসর’, ‘এআই প্রক্টর’ এবং ‘এআই রেজিস্ট্রার’-এর মতো একাধিক উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করেছে। বর্তমানে তারা ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্পের উন্নয়নেও কাজ করছেন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬-এ অংশ নেওয়া ১৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১২টি বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আর. কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সামস ইকবাল, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সারওয়ার হোসেন মোল্লাসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!