যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলা কিউআরে লেনদেন খরচ কমাতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫১ AM

১৬
বাংলা কিউআরে লেনদেন খরচ কমাতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল

দেশে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এর ফলে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের লেনদেনে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনা পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের লেনদেন খরচও কমবে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলা কিউআর লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৫১তম সভায় এই প্রণোদনা বাজেট অনুমোদন করা হয়।

যেভাবে দেওয়া হবে প্রণোদনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যক্তিপর্যায়ে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবাদাতাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাংলা কিউআর লেনদেনে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে।

যে প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোড স্থাপন করবে, অর্থাৎ অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান, তারা সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ০ দশমিক ১০ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে।

অন্যদিকে গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করবেন, সেই ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে লেনদেনের ০ দশমিক ২০ শতাংশ প্রণোদনা।

কেন এই উদ্যোগ

দেশে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে বাংলা কিউআরকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে এর ব্যবহার প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। এর অন্যতম কারণ ছিল লেনদেনের মাশুল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে লেনদেনের মাশুল ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ব্যবসার লাভের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই মাশুলকে বাড়তি খরচ হিসেবে দেখতেন। ফলে ডিজিটাল লেনদেনের পরিবর্তে নগদ অর্থ ব্যবহারে তাঁদের আগ্রহ বেশি ছিল।

ব্যবসায়ীদের এই খরচ কমানো এবং দেশে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইন্টারচেঞ্জ ফি বাতিল

বাংলা কিউআর লেনদেনের খরচ কমাতে আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আলাদা এক প্রজ্ঞাপনে ‘ইন্টারচেঞ্জ রেইম্বার্সমেন্ট ফি’ পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এত দিন লেনদেনের ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ মাশুলের একটি অংশ—০ দশমিক ৩৫ থেকে ০ দশমিক ৭০ শতাংশ—গ্রাহকের ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে দিতে হতো। ফলে মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোড স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে ব্যবসায়ীদের লেনদেনের খরচ কমানো কঠিন ছিল।

এখন এই ফি শূন্য করায় বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনে ব্যবসায়ীদের ওপর মাশুলের চাপ আরও কমবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অপব্যবহার ঠেকাতে শর্ত

প্রণোদনা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতেও শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেশি প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বড় অঙ্কের কোনো লেনদেনকে ভেঙে একাধিক ছোট লেনদেনে পরিণত করা যাবে না।

এ ছাড়া কোনো লেনদেন ব্যর্থ হলে, অর্থ ফেরত গেলে বা লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে সেই লেনদেনের বিপরীতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হবে না।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!