যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

এখন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ AM

৮
ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে তখন পিনপতন নীরবতা। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো খাম থেকে বের করলেন বিজয়ীর নাম লেখা কাগজ। ঘোষণা আসতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল অনুষ্ঠানস্থল—‘হ্যারি, হ্যারি’।

লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।

এই পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পর প্রথম ইংরেজ পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে তাঁর ৭৩ গোলের অসাধারণ পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিয়েছে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি।

পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত কেইন বলেন, ‘বাহ, বাহ, বাহ। আমি প্রায় বাক্যহারা। লন্ডনে এই আয়োজন হওয়ায় এটি আমার জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে। আজকের রাতটি যেন আমার জন্য শুভ সংকেত নিয়ে এসেছে।’

তাঁকে ভোট দেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেইন বলেন, এ বছর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা বিচারকদের জন্য নিশ্চয়ই কঠিন ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জেদ ও কঠোর পরিশ্রম যে সত্যিই সাফল্য এনে দিতে পারে, আজকের আয়োজন সেটিই তুলে ধরেছে।

গোলের পর গোল, সাফল্যের শিখরে কেইন

২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গোলের পর গোল করে চলেছেন কেইন। জার্মান ক্লাবটির হয়ে ১৫৮ ম্যাচে তাঁর গোল ১৫৬টি। এই পারফরম্যান্স তাঁকে বায়ার্নের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় সপ্তম স্থানে তুলে এনেছে।

বুন্দেসলিগায় টানা তিন মৌসুম সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে থেকেছেন ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার। ২০২৫-২৬ মৌসুমেও ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি।

ক্লাবের হয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কেইন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর পারফরম্যান্সও এবারের পুরস্কারের দৌড়ে তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।

ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলার গল্প

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এবার আলোচনায় ছিলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে গোলসংখ্যা, ধারাবাহিকতা ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে তাঁদের পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জিতে নেন কেইন।

বিচারকদের খেলোয়াড়দের র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণে সাম্প্রতিক মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছিল। সেই বিবেচনায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে কেইনের গোল করার অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে বিশেষভাবে এগিয়ে রেখেছে।

ইংল্যান্ডের সাফল্যেও অবদান

ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন কেইন। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জনের পথে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে ইংল্যান্ড। কেইন আসর শেষ করেন পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে।

ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গোলের ধারাবাহিকতা, ব্যক্তিগত অর্জন এবং বড় মঞ্চে পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে কেইনের হাতে উঠেছে ব্যালন ডি’অর। এই স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অপেক্ষার অবসান ঘটানোর পাশাপাশি ইংলিশ ফুটবলেও যোগ করেছে নতুন এক অধ্যায়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!