চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থছাড় কমেছে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয়ও বেড়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উন্নয়ন সহযোগীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পাওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং অনুদান ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
কমেছে অর্থছাড়
বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও অর্থছাড়ের চিত্র ভিন্ন। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ছাড় হওয়া প্রকল্প সহায়তার পরিমাণ ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে।
বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে
বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
ইআরডির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণের আসল বাবদ ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
একই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সুদ বাবদ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে।
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন
বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এ অর্থায়ন বাস্তবায়িত হলে দেশের তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিশ্রুতি বাড়লেও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ
বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়া উন্নয়ন প্রকল্পে ভবিষ্যৎ অর্থায়নের সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে প্রতিশ্রুত অর্থ আর বাস্তবে পাওয়া অর্থ এক নয়। উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রস্তুতি, বাস্তবায়নের অগ্রগতি, অর্থছাড়ের সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
তাই নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত ছাড়, প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক ঋণের বোঝা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে একদিকে অর্থছাড় কমে যাওয়া, অন্যদিকে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!