ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল টানা ব্যর্থতায় ভরা। একের পর এক ছবি ফ্লপ—বলিউডে টিকে থাকাই যখন কঠিন হয়ে উঠেছিল, তখনও হাল ছাড়েননি মাধুরী দীক্ষিত। নিজের জেদ, পরিশ্রম আর প্রতিভার জোরে তিনি ঘুরে দাঁড়ান, আর নব্বইয়ের দশকে হয়ে ওঠেন বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন।
১৯৮৪ সালে অবোধ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। তবে শুরুটা সুখকর ছিল না। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। পরের বছর রাজেশ খান্নার বিপরীতে আওয়ারা বাপ সিনেমাতেও ভাগ্য ফেরেনি। টানা চার বছরে আটটি সিনেমা ব্যর্থ হওয়ার পরও তিনি লড়াই চালিয়ে যান।
ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। নব্বইয়ের দশকে এসে মাধুরী হয়ে ওঠেন নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ। তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম হাম আপকে হ্যায় কৌন..!। ছবিটি মুক্তির পর ভারতজুড়ে বিপুল সাড়া ফেলে এবং বক্স অফিসে প্রায় ৭২ কোটি রুপি আয় করে।
এই সিনেমার মাধ্যমেই পারিশ্রমিকের দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি। শোনা যায়, ছবিটির জন্য মাধুরী প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ রুপি নিয়েছিলেন—যা সে সময়ের হিসেবে অভাবনীয়। একই ছবিতে অভিনয় করা সালমান খান-এর চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই তিনি পারিশ্রমিকের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন শাহরুখ খান-এর মতো তারকাদের থেকেও। যখন মাধুরী সিনেমাপ্রতি ৫০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নিতেন, তখন শাহরুখের আয় ছিল ৩০ থেকে ৪০ লাখ রুপির মধ্যে।
অভিনয় দক্ষতা, নাচ এবং পর্দা উপস্থিতি—সব মিলিয়ে মাধুরী দীক্ষিত হয়ে উঠেছিলেন এক অনন্য নাম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দেওয়া এই অভিনেত্রী আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়, সমান গ্ল্যামারাস।
আরএস-রাসেল
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!